মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম রেকর্ড ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর সংকটে পড়েছে দেশের এভিয়েশন খাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির হার এত বেশি নয়। তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, গত এক মাসে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৯৫ থেকে ১০৭ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২০২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়েছে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো। এক রাতের ব্যবধানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে ভাড়া বেড়েছে ১২০০ টাকা। এছাড়া যশোর ও রাজশাহী রুটে ভাড়া বেড়েছে ১০০০ টাকা।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে রিটার্ন টিকিটের জন্য যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম ও নভোএয়ারের মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক রুটের চেয়েও অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে এই ভাড়ার প্রভাব বেশি পড়বে। সাধারণ যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ভাড়া চলে যাওয়ায় যাত্রী হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সেক্রেটারি জেনারেল মফিউর রহমান জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিইআরসির যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ বছরে দেশে ২৮টি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও সরকারের নানা সিদ্ধান্তে টিকিটের দাম বাড়ছে। এতে বিমানের প্রতি মানুষের অনাগ্রহ তৈরি হবে এবং এর বড় প্রভাব পড়বে প্রবাসী শ্রমিক, হোটেল ও পর্যটনখাতের ওপর।
দেশে এয়ারলাইনস বাজার টিকিয়ে রাখতে দ্রুত এই দাম পুনর্বিবেচনা করে মূল্য হ্রাস করার দাবি জানিয়েছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা।