রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চলা উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন পুরুষ এবং ৭ জন শিশু রয়েছে।
গত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী 'সৌহার্দ্য পরিবহনের' একটি বাস দৌলতদিয়া ঘাটের তিন নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীর পানির নিচে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়।
বুধবার রাত ১২টা ৩৮ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে বাসটিকে পানির নিচ থেকে টেনে তোলা হয়। বাসটি উপরে তোলার পর থেকেই মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, বাসটির ভেতর থেকেই ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই দুই নারীকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট, ১০ জন ডুবুরি ছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে ২৬ জনের মধ্যে ২২ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান জানান, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দাফন ও তাৎক্ষণিক খরচের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ঘাটে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।