বৈশাখে মাতলো সারাদেশ, আনন্দোৎসবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

নতুন সূর্যের আবাহনে বাঙালির হৃদয়ে আজ বেজে উঠেছে নতুনের জয়গান। পুরনো বছরের সব গ্লানি আর জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আনন্দ-উৎসবে মেতেছে সারাদেশ। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশের স্বাদ আর বর্ণিল শোভাযাত্রায় বরণ করে নেওয়া হচ্ছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে। বাঙালির এই চিরায়ত মিলনমেলায় আজ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শামিল হয়েছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার নতুন শপথে।

অপরদিকে, পহেলা বৈশাখ বাঙালির কাছে শুধুই নতুন বছরের শুরু নয়, এটি নিজের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়কে পুনরায় উচ্চারণের দিন। এটি যেমনি আনন্দের দিন, ঠিক তেমনিভাবে নিজের শিকড়কে অনুভব করার দিনও।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে সারাদেশ থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের প্রতিবেদন-

মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। সকালবেলা জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণিল এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য। এছাড়াও জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শেষ হয়। 

রাজশাহী

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের আয়োজনে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকাল ৯ টায় মহানগরীর বাটার মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে বিয়ে শেষ হয়। এখানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন লোগো জো খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এর আগে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এসময় তিনি নতুন বছরের এই শুভক্ষণে সকলের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি ঐক্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা রাখেন মিনু। 

দিনটি উপলক্ষে সকাল সাত'টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। শোভাড়যাত্রাটি রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা জুড়ে বাংলার হারানো ঐতিহ্যসহ আবহমান গ্রাম বাংলার চিত্রপট তুলে ধরা হয়। 

এছাড়া বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত মুক্তমঞ্চে কবিগুরুর গানের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। দিনভর গান, নাচসহ বিভিন্ন আয়োজনে বর্ষবরণে মেতে উঠেন সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে আলাদা আলাদা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছে। 

জামালপুর

বাংল নববর্ষ উপলক্ষে জামালপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। স্থানীয় বকুলতলা চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর পদক্ষিন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন সংসদ সদস্য এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক।

পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

রংপুর

নানা আয়োজনে সারাদেশের মত বিভাগীয় নগরী রংপুরেও পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। 

দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজনে বিভিন্ন লোকজ গান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জিলা স্কুল থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে পায়রা চত্ত্বর হয়ে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও দেশীয় সংস্কৃতির ধারায় চলে বৈশাখী উৎসব।  

শেরপুর

বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশের ন্যায় শেরপুরেও উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে জেলাজুড়ে চলছে নানা আয়োজন। ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে পাঁচটি উপজেলায় নেয়া হয়েছে আলাদা আলাদা কর্মসূচি। ভোরের প্রথম আলোতেই বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় বর্ষবরণের নানা কর্মসূচি।

সকালে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেয় নানা বয়সী মানুষ। রঙিন মুখোশ, ঘুড়ি, ময়ূর, পাখি, বাঘ সহ বিভিন্ন ফেস্টুন, গরুর গাড়ি ও পালকির লোকজ উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। এসময় তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ পান্তা-ইলিশ আর গ্রামীণ মেলা। কোথাও বসেছে বৈশাখী মেলা, আবার কোথাও চলছে লোকজ গান আর নৃত্য পরিবেশনা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের রয়েছে কড়া নজরদারি। 

দিনব্যাপী নানা আয়োজন শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষবরণের উৎসব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বৈশাখী শোভাযাত্রা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহি ঘোড়ারগাড়ি, গরুগাড়ি সহ বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।।

বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে প্রায় ৪০টি সংগঠনের বিভিন্ন বয়সী শিল্পী,  সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।

চুয়াডাঙ্গা

মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় চুয়াডাঙ্গা জুবেলী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গানের এর মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে সকাল সোয়া ৮ টায় চাঁদমারি মাঠ থেকে সরকারি কলেজের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটির চুয়াডাঙ্গা কোটমোড়, হাসান চত্বর, পৌরসভা মোড়, কবরী রোড হয়ে সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। চুয়াডাঙ্গার মোট ৫১ টি সংগঠন  এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। পরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা এক আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই পহেলা বৈশাখ। বর্তমানে কালের পরিক্রমায় আমাদের যে সকল সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে তা যেন আমরা বুকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে অংশগ্রহণ করতে পারি। যে সকল খেলা বর্তমানে হারিয়ে গেছে যেমন লাঠি খেলা, হাডুডু এ সকল খেলা বাঁচিয়ে রেখে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সকলকে শুভেচ্ছা শুভ নববর্ষ। 

বগুড়া

বগুড়ায় নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এ উপলক্ষে শহরের পৌর পার্কে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা।

সকালে শহরের ডিসি অফিসের বটতলা থেকে বের করা হয় বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় ছিল হাতি, ঘোড়া, লাঙল-জোয়ালসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ।

জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে শহরজুড়ে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বৈশাখী সাজে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় স্থানীয় মিষ্টি ও মুখরোচক খাবারের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আজ সকালে শহরের পৌর পার্কে মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

মেলায় স্থানীয় কুটির শিল্প, মাটির খেলনা, হাতপাখা এবং বৈশাখী পিঠা-মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী দই ও মিষ্টির কদরও রয়েছে চোখে পড়ার মতো।

এছাড়াও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলা বাংলা বর্ষবরন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ও বর্নাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিভিন্ন সংগঠন নতুন বৎসরকে স্বাগত জানিয়ে নানা কর্মসূচি আয়োজন করে। 

সকাল সাড়ে ৯ টায় ডিসি চত্বর থেকে সম্মিলিত বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়।  জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ও পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ- হাতে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও মুখোশ নিয়ে তারা বাংলার নতুন বছরকে স্বাগত জানান। র‌্যালি শেষে ডিসি চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে

এখানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  এতে স্থানীয় শিল্পীরা লোকসংগীত, নৃত্য  কৌতুক, ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন শিশু-কিশোরদের রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করে।

অপরদিকে জেলার ঐতিয্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রচ্ছদ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারা সকালে মঙ্গলশোভা যাত্রা,বিকেলে ডায়বেটিস হাসপাতাল মাঠে লাঠি খেলা ও রাতে লোক সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে।

নীলফামারী

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা নব্বর্ষ বরণ হচ্ছে নীলফামারীতে। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ আর গ্রাম বাংলার নানান ঐতিহ্য তুলে ধরে বৈশাখী শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের ডিসি গার্ডেনে গিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।  সেখানে ‘জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলা নব্বর্ষ-১৪৩৩ বরণ। পরে সেখানে পান্তা ভাত, দুই চিড়াসহ বাঙ্গালীর ঐহিত্যবাহি খাবারের আয়োজন করা হয়

ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা বর্ষ বরণের অনুষ্ঠিত হয়েছে। পহেলা বৈশাখ মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ষবরণের শোভাযাত্রা বের হয়। বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুসর্গ নিয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উন্মুক্তমঞ্চে শেষে হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যোগ দেয়। এছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে মেলাসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

খুলনা

বাংলা বছরের প্রথম দিনটি ঘিরে খুলনায় দিনভর চলছে নানা আয়োজন। প্রত্যুষে খুলনা আদালতপাড়া প্রাঙ্গনে উদিচি শিল্পি গোষ্ঠির আয়োজনে বষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিগত বছরের সব জীণতা-শীণতা মুছে ফেলে সব ধম, বণের মানুষের সুখ, শান্তি কামনা করে চলে বষবরণের গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাচ। অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের স্বত:স্ফূত অংশ গ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়া সকালে থুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে নগরীতে বণাঢ্য বৈশাখি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া নগরীরতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলশ, বৈশাখি মেলা, লাঠিখেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ 

মানিকগঞ্জে বর্ণাঢ্য নানান আয়োজনে বৈশাখী উৎসব পালন হচ্ছে। সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় গ্রামীণ নানা ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিশু শিল্পীরা নাচ-গানে মাতিয়ে তোলে।

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে শেষ হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রা-১৪৩৩। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ‘অতীতের গ্লানি-দুঃখ-জরা মুছে ফেলে নতুন বছর সবার জন্য আনন্দ ও মঙ্গলের বার্তা নিয়ে আসবে, এটাই প্রত্যাশা নিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

নওগাঁ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণে আনন্দ শোভাযাত্রায় নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চলছে বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন আয়োজনে শহরের এটিম মাঠ থেকে বের করা হয় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।

আনন্দ শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার আগে সকাল থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চিরচেনা গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রঙিন পোশাকে শহরের এটিম মাঠ এসে জড়ো হলে তাদের উপস্থিতি শুরু হয় বর্ষবরণে আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, ঘোড়া, পালকি, মাটির তৈরি বাসনসহ বিভিন্ন বর্ণের বেলুন ফেষ্টুন, মাথাল শোভাযাত্রাকে বর্ণিল করে তোলে।

শোভাযাত্রা শেষে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের চত্বরে নব বর্ষের গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী সেখানে আয়োজন করা হয়েছে লোকজ মেলা।

ফরিদপুর

ফরিদপুরে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‌্যালীটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হযে অম্বিকা হলে প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

পরে সেখানে আলোচনা অনুষ্ঠান ও দেশীয় সাংস্কৃতির পরবেশনা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। আলোচনা অনুষ্টানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসা প্রমূূখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় পুরাতন বছরের জ¦রা জীর্ণতা ছাড়িয়ে নতুন বছরে নতুন উদ্যোমে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

নানা বয়সের নারী-পুরুষ-শিশুরা এ উৎসবে অংশ নেয়। জেলা প্রশাসন ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করছে।

পটুয়াখালী

উৎসব আর উচ্ছাস মুখর পরিবেশে পটুয়াখালীতেও বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ও ১লা বৈশাখকে বরন করা হয়েছে। সকাল আটটায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি অফিসের সামনে থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়ে পৌর পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ্যে সর্ব বয়সের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। বর্ণিল শোভাযাত্রা বিভিন্ন সাজে আবহমান বাংলার কৃস্টি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। 

শোভা যাত্রা শেষে পৌরপার্ক প্রাঙ্গনে চারদিন ব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহীদ হোসেন চৌধুরী। এসময় পুলিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ, পৌর প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মেলা প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজস করা হয়।
এছাড়াও বিকেলে ঝাউতলা মাঠে হা-ডু-ডু খেলা এবং বালিকা বিদ্যালয় মাঠে মেয়েদের ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম

নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণিল বৈশাখী রঙে চট্টগ্রামে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসনের আয়োজন সকাল ৮টায় নগরীর সার্কিট হাউস থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান ভেন্যু ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় পালকি, ঘোড়ার গাড়ি, জেলে, গ্রামের বধূসহ বাংলার নানা সংস্কৃতি স্থান পায়। স্থান পায় গ্রামীণ জীবনের নানান অনুষঙ্গ। শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভূৃমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরে ডিসি হিলে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান। সি আর বি'র শিরীষ তলায় ছিল একই রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন। 

কলাপাড়া

বৈশাখী শোভাযাত্রায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সড়কে যেন সমুদ্র থেকে উঠে এলো বিশাল ১৪ ফুটের ইলিশ। তার পিছনে হেঁটে চলছে বিশাল বক।  পথে পথে বিতরণ করা হয়েছে মুড়ি, খই, বাতাসাও জিলাপি। 

সেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনু কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো এই বর্ণঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করে। আর এতে অংশ নেয কলাপাড়ার হাজার হাজার স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। শত শত মুখোশ হাতে নিয়ে ঢাক, ঢোল, কাস, করতালের তালে তালে শিশু কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ গেয়ে চলে বৈশাখের গান।

রংধনু’র সভাপতি হুমায়ুন কবির জুয়েল সিকদার বলেন, প্রায় ৩৩ বছর পর  কলাপাড়ায় এত বড় বৈশাখী শোভাযাত্রা  অনুষ্ঠিত হলো। তারা শোভাযাত্রায় তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন কলাপাড়ার ঐতিহ্য ও ব্রান্ড  সামুদ্রিক ইলিশ, হারিয়ে যাওয়া বক। এছাড়া শতশত মুখোশ ছাড়াও শোভাযাত্রায় ছিলো কৃষান,কৃষাণীদের জীবনগাঁথা, খাল বিলে মাছ ধরার হারিয়ে যাওয়া নানা সামগ্রী। মূলত নতুন প্রজন্মকে বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করে দিতে তাদের এই আয়োজন । 

যশোর 

যশোরে বৈশাখী শোভাযাত্রা, নাচ, গান আর ঢাকের তালে বরণ করে নেয়া হল বাংলা নববর্ষকে। শহরজুড়ে বসেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মেলা। সকাল সাড়ে ৬টায় পৌর পার্কে উদীচী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ উৎসব। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা অনুষ্টানের আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৮টায় টাউন হল ময়দান থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়নাভিরাম বিভিন্ন সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে  শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রতিক্ষণ করে টাউন হল ময়দানে শেষ হয়। 

ফেনী

পহেলা বৈশাখে হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধারণ করে ফেনীতেও নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিটিআই মাঠে লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ,লোকজ খাবার ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে এবি পার্টির উদ্যোগ ফ্রি চিকিৎসা সেবা।
দিনব্যাপী চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকসংগীত, নৃত্য আর কবিতায় ফুটে উঠছে বাঙালির প্রাণের সুর। দেওয়া হচ্ছে এবি পার্টির উদ্যোগ ফ্রি চিকিৎসা সেবা।

পাঁচ দিনব্যাপী লোকজ মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক ও পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম। এর আগে কলেজ মাঠ থেকে বের হয় বৈশাখী শোভা যাত্রা।

গাইবান্ধা

নতুন বছরের প্রথম দিনটি ঘিরে সকাল থেকেই জেলা শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলা এবং লোকজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন আয়োজন।

মঙ্গলবার সকালে শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান  সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারো স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় স্থান পায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ জীবনের প্রতিচিত্র এবং নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন।

পরে স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ চত্বরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা গান, নাচ ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।

এছাড়াও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী বসে বৈশাখী মেলা। মেলায় পাওয়া যায় নানা ধরনের গ্রামীণ পণ্য, হস্তশিল্প, খেলনা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার।

ঠাকুরগাঁও

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এই শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেখানে অংশ নেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা রঙিন পোশাক, মুখোশ, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। শোভাযাত্রায় ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ, মহিষ ও গরুর গাড়ি, পুতুল, পালকি, এবং লোকজ সংস্কৃতির নানা প্রতীকী উপস্থাপনা।

শোভাযাত্রায় ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ঢাক-ঢোলের বাদ্যযন্ত্র ও লোকসংগীত পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

উল্লাপাড়া

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। রঙিন সাজ আর উৎসবমুখর পরিবেশে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা চত্বরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় বর্ষবরণ পর্ষদের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮ আটটায় নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে  থেকে বর্ণাঢ্য একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। 

পরে বর্ষবরণ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে ৩ দিন ব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভিন।

এ সময় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, সকল ধর্ম পেশার মানুষ নিয়ে রাজবাড়ীর উন্নয়নের কাজ করা হবে।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণিল এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ঢাক-ঢোলের শব্দ আর বৈশাখী গানে মুখরিত শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা গ্রাম বাংলার লাটিখেলা,গরু-মহিষের গাড়িসহ বিভিন্ন লোকজ নির্দশন পরিবেশন করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে গ্রাম বাংলার লাঠিখেলা ও সাপখেলা পরিবেশন করা হয়।

এরআগে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ' গান পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু করা হয়৷ 

বৈশাখী শোভাযাত্রায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনসহ জনপ্রতিনিধি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। 

নরসিংদী

আজ পহেলা বৈশাখ। নানা আয়োজনে আনন্দঘণ পরিবেশে নতুন বর্ষকে বরণ করে নিয়েছে নরসিংদীবাসী। ঢাক ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে মেতে উঠেছে উৎসব আর আনন্দ আয়োজনে।

সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম থেকে বার্ণাঢ্য এক আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম-বাংলার আবহমান নানা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। 

এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সিভিল সার্জন ডা.বুলবুল কবীরসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

ভোলা

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ কে নানান আয়োজনে দ্বীপ জেলা ভোলায় বরণ করা হয়েছে। আজ ভোরে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য এক বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় গ্ৰাম বাংলার নানা ঐতিহ্যের প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সব বয়সী মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে অফির্সাস ক্লাব প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।
পড়ে সেখানে আনন্দমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী বাঙালী খাবার খাওয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা । এসময় রংবেরঙের নানা সাজে সজ্জিত হয়ে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নানা শ্রেণী পেশার মানুষ নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। 

সাতক্ষীরা 

উৎসবমুখর পরিবেশে সাতক্ষীরায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বর্তমানে বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা চলছে, যেখানে ৫০টি স্টলে উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসেছেন। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী উদ্যোক্তা এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিষ্ণুপদ পাল এবং বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। এই আনন্দঘন আয়োজনে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

বরিশাল

বরিশালে ব্রজমোহন বিদ্যালয় মাঠে উদীচী শিল্পী গেষ্ঠীর সকাল ৭টায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের  মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণের উতসবের সূচনা হয়। এরপর চারুকলার আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় সকাল সড়ে ৮টায়। এটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। এছাড়া অশ্বিনী কুমার হলের সামনে খেলাঘর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে। 

শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া ব্যক্তিরা বলেন, সভ্যতার প্রতীক হলো ঐক্য। আজকের শোভাযাত্রায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল শোক তাপ দূর করে নব আনন্দে মেতে ওঠার দিন। কামনা করেন সবাই ভালো থাকুক শান্তিতে থাকুক পুরোটা বছর ধরে।

মেহেরপুর

গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরে মেহেরপুরে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। এবারের বৈশাখের শ্লোগান “নববর্ষের ঐকতন, গণতন্ত্রের পুররুথান” আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে জাতীয় সঙ্গীত ও এসো হে বৈশাখ সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসককের কার্যালয় চত্ত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা পরিষদদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

এদিন বৈশাখককে বরণ করতে নানা ঢঙে, বিভিন্ন সাজে এসেছিলেন এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা। কেউ কেউ বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।  

মাগুরা

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাগুরায় বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শহরে একটি র্যালী বের হয়। র্যালী শহর ঘুরে নোমানি ময়দানে শেষ হয়। নোমানি ময়দানে দুইদিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা- ১ আসনের  সংসদ সদস্য মো: মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন সহ রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা। দিবসটি উপলক্ষে দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। 

ময়মনসিংহ

আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করেছে ময়মনসিংহের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ । সকালে নগরভবন থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন । সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে   আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় সিটি প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকারসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ও জাকির হোসেন বাবলু এবং নানা শ্রেণি পেশার মানুষ যোগ দেন । ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় থেকে সকালে আলাদা আরেকটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন । স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয় ।

সিলেট

নানা আয়োজন আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সিলেট-এ উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রঙিন পোশাকে, মুখে হাসি আর মনে নতুন আশার আলো নিয়ে যোগ দেন প্রাণের এই উৎসবে।

বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী। গান, নাচ, আবৃত্তি এবং বর্ণিল শোভাযাত্রায় মেতে ওঠে শহর। কোথাও বাজে বৈশাখী সুর, কোথাও আবার লোকজ ঐতিহ্যের ছোঁয়া, সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

সাধারণ মানুষের কণ্ঠে একটাই প্রত্যাশা—সব হতাশা, ক্লান্তি ও দুঃখ ভুলে নতুন বছরে শুরু হোক এক নতুন বাংলাদেশ। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় সবাই বরণ করে নিচ্ছে বাংলা নতুন বছর।

এদিকে সকালে সিলেট ব্লুবার্ড স্কুল-এ অনুষ্ঠিত শ্রুতির বৈশাখী বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, যারা অতীতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চায়নি, তারা এখনও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ তাদের সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেবে না।

নারায়ণগঞ্জ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রঙে রঙে সেজে উঠেছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ। নতুন বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানাতে শহরের সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চলছে উৎসবমুখর আয়োজন।

সকালের প্রথম প্রহরেই শহরের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নানা বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ছিল ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, পুতুল, গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপন, যা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, খানপুর, ডিআইটি এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসেছে বৈশাখী মেলা। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে গ্রামীণ হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, পান্তা-ইলিশসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার। শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিতে রয়েছে নাগরদোলা ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী আয়োজন করেছে গান, নাচ, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পীরা বৈশাখী গান পরিবেশন করে উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করছেন।

উৎসবে অংশ নিতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন। এমন আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

সব মিলিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মুখর হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ।

ঠাকুরগাঁও

বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে বইছে প্রাণের উচ্ছ্বাস, লাল-সাদার রঙে সেজেছে চারপাশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণের মূল আয়োজন শুরু হয় শহরের আদালত চত্বরের বটতলায়, নিক্বণ সংগীত বিদ্যালয়ের সুরের মূর্ছনায়। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করে আসা এই সংগঠনটি আয়োজন করে আসছে প্রভাতি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে বটতলা সাজানো হয় বর্ণিল সাজে, আর ছায়ানটের আদলে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ।

মঙ্গলবার ভোরে নতুন বছরের প্রথম সূর্যকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ও রাগভৈরবীর সুরে শুরু হয় বর্ষবরণ। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক আয়োজন। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও রজনীকান্ত সেন—এই পঞ্চকবির গান পরিবেশনের পাশাপাশি থাকবে আবৃত্তি, তবলা, সেতার ও সরোদের মনোমুগ্ধকর যন্ত্রসংগীত। 

এছাড়া লালনসংগীত, লোকগান ও ভাওয়াইয়া পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলে। 

রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটিতে বাংলা নববর্ষ বরণে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। শোভাযাত্রাটি রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বর্ণিল সাজে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে বিভিন্ন পোশাকে সজ্জিত হয়। শোভাযাত্রায় হাতি, ঘোড়া, প্যাঁচাসহ বিভিন্ন জাতীয় পাখি স্থান পেয়েছে।

এ সময় বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকি তার ঢাকের তালে তালে তরুন তরুনীরা নেচে নেচে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেন।

এসময় পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

পরে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন করা হয়। 

এরপর রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আব্দুল আলী মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

নেত্রকোনা

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে নেত্রকোনা। জেলা শহরসহ দশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিকের বেশী  বৈশাখী মেলা বসেছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর লোকজ পণ্যের সমাহারে মেলাগুলোতে ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ। 

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনা জেলা শহরসহ দশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে বৈশাখী মেলা। গ্রামীণ সংস্কৃতি আর বাঙালির ঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব মেলায় দেখা মিলছে নানান রঙের আয়োজন। 

মেলায় রয়েছে হাতের তৈরি মাটির জিনিসপত্র, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, কাঠের খেলনা, গ্রামীণ মিষ্টান্নসহ নানা ধরনের পণ্য। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, ঘোড়ার গাড়ি ও বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা।

এছাড়া মেলাগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে লোকজ গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসব, যা বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে দর্শনার্থীদের মাঝে। 

আয়োজকরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। 

বৈশাখের এই আয়োজন শুধু আনন্দই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও যোগ করছে নতুন গতি। উৎসবমুখর পরিবেশে বৈশাখী মেলাগুলো চলবে কয়েকদিন ধরে। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো জেলা।