জনগণের টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছিলো: প্রধানমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে দেশের সম্পদ ও অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যারা কাজ করবে তাদের জন্য বালিশ কেনা হয়েছিলো ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। একটি বালিশের দাম কখনো ৮০ হাজার টাকা হতে পারে? জনগণের এই টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছিলো।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছরে এ দেশের মানুষের লাখো কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে। গ্রামে কোনো উন্নয়ন হয়নি; শহরে কিছু ফ্লাইওভার হলেও রাস্তাঘাট সব ভাঙা। এছাড়া প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করে তাদের দক্ষতা নষ্ট করা হয়েছিলো এবং অন্য দেশের চিকিৎসা সেবার সুবিধার জন্য দেশের নিজস্ব চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিলো।

আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম করে এবং অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। আর বাংলাদেশের জনগণ সেই আন্দোলনে সফল হয়েছে।

তিনি যোগ করেন, এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এখন জনগণের শাসন, কথা বলা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করা।

স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, আজকে আমরা যেই বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছি, এটি বিগত এক যুগের অধিক সময় কেন সংস্কার হলো না? এটি খনন হলে এই এলাকার মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবেন। কারণ গ্রামে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করে। একই সঙ্গে একযুগে কেন এখানে কোনো টেকনিক্যাল কলেজ করা হয়নি, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। 

তারেক রহমান জানান, এখানে টেকনিক্যাল কলেজ হলে এলাকার যুবকেরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণ পেয়ে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ-যুবকদের প্রশিক্ষিত এবং মেয়েদের শিক্ষিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি মায়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য একটি অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সার-বীজ ক্রয় করার জন্য কৃষক ভাইদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।