রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যেই দেশের আটটি বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টির এই সম্ভাবনার মধ্যেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম ও চরম শারীরিক অস্বস্তি এখনই কমছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন।
বুধবারও সারাদেশে তীব্র গরমের দাপট ছিলো। এ দিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হচ্ছে, যা শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে চলাচল দুর্বিষহ করে তুলেছে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে রাজধানীর জিয়া উদ্যান সংলগ্ন লেকে অনেককে সাঁতার কেটে শরীর জুড়াতে ও কিছুটা স্বস্তি খুঁজতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই। অস্বস্তিকর এই আবহাওয়া আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।
অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকেরা এই সময়ে ঘরের বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা, সুতি পোশাক পরা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানি ও স্যালাইন পানের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তীব্র গরমের কারণে ফসলি জমিতে সেচের পানির পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।