আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস কাল বুধবার। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসহ নানা কার্যক্রম।
দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের গর্বিত অংশীদার।
১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী পুলিশসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন শান্তিরক্ষী ২৫টি দেশে ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদান রেখেছেন। হাইতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ৫২৫ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত হবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ৮ জন নারীসহ ৩৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ইউএনপোল ও ইউএন জবে নিয়োজিত রয়েছেন। পুলিশের নারী সদস্যগণ ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ২৫ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশের শান্তিরক্ষীরা নানা প্রতিকূলতা জয় করে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। হাইতির ভূমিকম্প-কবলিত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আফ্রিকা ও ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতেও তারা অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুলিশের এ অনন্য ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সংঘাত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা ও শান্তিপ্রতিষ্ঠায় অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পুলিশের গৌরবোদ্দীপ্ত ও অনন্য অবদান বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। এ বছর উক্ত দিন সরকারি ছুটি থাকায় দিবসটি ১০ জুন পালন করা হচ্ছে।