মাদক নিয়ন্ত্রণে আলাদা ট্রাইব্যুনাল চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দেশের বিদ্যমান মাদকবিরোধী আইন দিয়ে মাদক সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ঝুলে থাকা মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রসমূহের মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে, ১৫টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে আর্থিক সহায়তার চেক দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মাদক মামলার বিপুল জটলার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার—এই তিন জেলাতেই পৌনে এক লাখের বেশি মাদক মামলা ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই পেন্ডিং মামলার সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩৯ হাজার এবং দেশের অন্যতম মাদকপ্রবণ অঞ্চল কক্সবাজারে ১৮ হাজার মাদক মামলা এখনও বিচারাধীন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতো বিশাল সংখ্যক মামলা পেন্ডিং থাকায় আইনজীবীদের পক্ষেও সময়মতো মামলার সঠিক পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্যে যারা চোরাকারবারীর সাথে জড়িত তাদের সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানিক দলের কোন অস্ত্র নাই, নেই সেই রকম কোন সক্ষমতা।  তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। 

মাদক কারবারিদের দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধুমাত্র প্রচলিত ব্যবস্থা দিয়ে এই মহামারি রোখা সম্ভব নয়। এ জন্য দেশের আইনি কাঠামোকে আরও বেশি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) জনবল বৃদ্ধি ও লজিস্টিক সাপোর্ট মজবুত করার কাজ চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক এই সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনে বেসরকারি উদ্যোগের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।