প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝ থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের বিশ্বজয়ী বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ এর প্রদর্শনী ও চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সেরা খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং ইনোভেশন স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং দক্ষতা, যোগ্যতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মানবিক মূল্যবোধের সুসমন্বয় থাকবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার মেধা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পায় এবং তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিগত বছরগুলোর সৃজনশীল কাজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগের অভাব ছিল, তখন এই ফাউন্ডেশন বছরের পর বছর ধরে তরুণদের মেধা বিকাশে ভার্চুয়াল সায়েন্স প্রজেক্টসহ নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি যুগের পর যুগ এমন সৃজনশীল কাজ করতে পারে, তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে আমাদের আরও বড় পরিসরে কাজ করা উচিত। আর সেই চেতনা থেকেই আজ সরকারিভাবে এই জাতীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহার ও বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রতিফলন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ইশতেহারের ১০টি বিষয়কে শিক্ষায় কাভার করার চেষ্টা করছি। দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ভৌগোলিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বৈষম্য না রেখে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একত্র করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় কতটা এগিয়ে যাচ্ছে।
চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত প্রজেক্টগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকের ফাইনালে আসা প্রজেক্টের প্রতিটি উদ্ভাবনী নিয়মিত নার্সিং করব, প্রয়োজনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেব এবং প্রতি মাসে এ বিষয়ে আপডেট নেওয়া হবে, যাতে এগুলো সফল স্টার্টআপ হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রতিটি টিমে ৩ জন শিক্ষার্থীর সাথে ২ জন শিক্ষককে রাখা হয়েছে। আজ শিক্ষকদেরও ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নিয়ে সবসময় পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে গত ১২ জুন সারা দেশে শুরু হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা-থানা, জেলা এবং জাতীয়- এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। আজ অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।