দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ধস এবং বন্যাজনিত দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন, বান্দরবানে পাঁচজন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চট্টগ্রামে আট হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ১২৬ জন, খাগড়াছড়িতে এক হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে দুই হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত এসব এলাকা থেকে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত ৭ জুলাই দুর্গত পাঁচ জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে জিআর (নগদ) এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। আজ পুনরায় চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রত্যেক দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। পরিস্থিতির প্রয়োজনে আরও জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পাহাড় ধসে বারবার প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে। এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সচেতনতামূলক ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সংসদে ৩০০ বিধিতে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় গতকাল ১৩০০ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে ২০ লাখ টাকা করে দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ আজ সকালে দেওয়া হয়েছে, যেটা তারা রিসিভ করেছেন।