সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দিনভর রাজধানীতে এই বৃষ্টি চলতে পারে, তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এখন হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আজ দিনভর অব্যাহত থাকবে। বিকেলের দিকে তীব্রতা একটু কমার সম্ভাবনা থাকলেও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি চলবে। আকাশে যে মেঘমালা রয়েছে, তা না কাটা পর্যন্ত বৃষ্টি থামবে না। ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) থেকে এই মেঘ কেটে যেতে পারে এবং এরপর বৃষ্টিপাত কমে আসবে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ১২ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমে ঢাকায় এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এই ভারী বর্ষণের ফলে পুরো রাজধানী জুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
সোমবার রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় দেশের মধ্যাঞ্চলে (ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর) এবং চট্টগ্রামে অল্প সময়ে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডগুলো হলো:
- ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর: ৩৪১ মিলিমিটার (সর্বোচ্চ)।
- ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই: ৩৩৩ মিলিমিটার।
- ১৯৫৬ সাল: ৩২৬ মিলিমিটার।
- ২০২২ সাল (ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং): ২৫৫ মিলিমিটার।
- ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর: ২০৬ মিলিমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রোববার সকালে বান্দরবানের সাঙ্গু, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এর ফলে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।