বাসাবাড়ি ও সিএনজি পাম্পে তীব্র গ্যাস সংকট

মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও তা সচল করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এক ধাক্কায় বেশ কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি পাম্প, শিল্পকারখানা এবং বাসাবাড়ির গ্রাহকদের ওপর।

ছবি: একাত্তর টিভি
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকেরা। সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। সাধারণ সময়ে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের অনুমোদিত চাপ ১৫ পিএসআই থাকার কথা থাকলেও, স্বাভাবিক সময়েও তা ১০ পিএসআইয়ের বেশি মেলে না। তবে, গত পাঁচ দিন ধরে এই চাপ কমে ৫ পিএসআইয়ের নিচে নেমে এসেছে।

পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় পাম্পের কমপ্রেসার মেশিনগুলো আচমকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর নিকুঞ্জ ও খিলক্ষেতের মধ্যবর্তী এলাকার একটি সিএনজি পাম্পে বেলা ১১টার দিকে কমপ্রেসার মেশিন বন্ধ হয়ে গেলে থমকে যায় গ্যাস সরবরাহ। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। যেসব স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সচল রয়েছে, সেখানেও কম চাপের কারণে যানবাহন সচল রাখতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে ও আয় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়।

ছবি: একাত্তর টিভি
এই সংকটের ধাক্কা লেগেছে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানাতেও। বাসা-বাড়িতে রান্নাবান্নার চুলা ঠিকমতো না জ্বলায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ নেমে এসেছে ২২১ কোটি ঘনফুটে। অথচ অগ্নিকাণ্ডের আগে, অর্থাৎ মাত্র পাঁচ দিন আগেও দৈনিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি ঘনফুটের ওপরে। টার্মিনালটি দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।