অহেতুক রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে বিতাড়িত স্বৈরাচারকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আর কখনও কোনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’–এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়; এই আন্দোলনের আসল নায়ক দেশের সাধারণ জনগণ। তাই উদ্বোধিত এই জাদুঘরও কোনো একক দল বা ব্যক্তির প্ল্যাটফর্ম হবে না, বরং এটি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পূর্বসূরিদের সাহসিকতা তুলে ধরা এবং ফ্যাসিবাদের আসল মুখোশ উন্মোচনের এক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।
তিনি জানান, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে সরকার। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের নামে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণ এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রতিটি হতাহতের ঘটনায় নিরপেক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়া অভ্যুত্থান চলাকালে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, অতীত ও বর্তমানের স্মৃতিতে গড়া এই জাদুঘর ইতিহাসের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে এবং এটি হবে দেশের সকল সংস্কৃতির পাদপীঠ ও ইতিহাসের আঁতুরঘর।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন।