জ্বালানির সঙ্কট কাটাতে ১০ বছরের টেকসই পরিকল্পনা আনছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষে আগামী ১০ বছরের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দ্রুতই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে গুটি কতক ব্যক্তিস্বার্থ ও বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। একটি নতুন গ্যাসকূপও খনন না করার ফলে দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই অপরিকল্পিত ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যস্ত করে জনগণের স্বার্থে একটি স্থায়ী সমাধান দাঁড় করানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।  

তিনি জানান, সংসদে পেশ হতে যাওয়া ১০ বছর মেয়াদি নতুন এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য থাকবে শিল্প-কারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের জোগান দেওয়া।  

চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটে দেশের মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সঙ্কট অনেকটাই কমে আসবে। 

বিরোধী দলের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা উসকানি ও বিভ্রান্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনারা ৭১, ৮৬ ও ৯৬ সালে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১৭ বছর রাজপথে মানুষ আপনাদের দেখতে পায়নি, অথচ এখন গলা উঁচিয়ে কথা বলছেন।

তিনি বিরোধী দলকে গঠনমূলক প্রস্তাব দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনাদের কাছে যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা দিন; যদি সেগুলো দেশ ও জনগণের জন্য উপকারে আসে তাহলে আমরা গ্রহণ করবো। রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা করার দিন শেষ, জনগণ এখন আর সেই রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মানুষ এখন ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। দেশের ২০ কোটি মানুষের হাতকে কর্মক্ষম শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। 

শেষে তিনি প্রয়াত বেগম খালেজা জিয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি পরিহার করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহবান জানান।