প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে দিল্লির প্রতি আহবান জানিয়েছে ঢাকা। রোববার দুপুরে, এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যার আসামিসহ পলাতকদের ফেরত পাঠাতে যে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ তার জবাবের অপেক্ষায় আছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আগামী সেপ্টম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের দৌঁড়ঝাপ। একের পর এক গুঞ্জন। সবশেষ আলোচনায় আসে, ২১ আগস্টে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সপ্তাহের শুরুর কর্মদিবসে ডাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে যথারীতি উঠে সেই প্রশ্ন। মুখপাত্রও জবাবটা দিলে কূটনৈতিকভাবেই। বলেন, এ কে এম শহিদুল করিম গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডিত শেখ হাসিনার দিল্লিতে ৫ আগস্টের প্রেস কনফারেন্সের কারণে তা ব্যহত হয়। ওই প্রেস কনফারেন্স নিয়েও আমাদের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করেছি। আমরা মনেকরি প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের পারদ কখনও উঠছে আবার কখনও নামছে। আর এর মাঝখানে আছে পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা। সাথে আবার অন্যান্য অপরাধীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া বা আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও সোজা কথা, এসবের সুরাহা করতে হবে দিল্লিকেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সম্প্রতি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আমরা শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের হস্তান্তর করার কথা বলেছি। তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। অন্যদিকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। এরও জবাবের অপেক্ষায় আছি আমরা।
মুখপাত্র বলেন, আমরা পুনরায় বলছি যে, আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব।