শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে: নজরুল ইসলাম খান

জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করতে চাই, সেই সংস্কার কমিশনকে যারা সহায়তা করবে, তাদের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা দূর না করে কমিশন গঠন করলে ভালো কাজ হবে না। এ কারণে একটু সময় লাগছে। শিগগিরই হবে, ইনশাল্লাহ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা বলা আছে সরকার সেই পয়েন্ট থেকে সরে আসে নাই। বরঞ্চ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং ‘ইন দি মিন টাইম’ কিছু প্রক্রিয়াও আপনারা দেখেছেন, কিছু কিছু কাজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে আগের সরকারের অনুগত কিছু ব্যক্তি এখনো প্রশাসনে রয়ে গেছেন। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে চিহ্নিত করে সেসব জায়গা পরিষ্কার করার একটি চেষ্টা আমরা করেছি এবং তা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, এমন কিছু করা যাবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়। একই সময়ে প্রশাসনকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, সেখান থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবে জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেটিও আমরা লক্ষ্য করেছি এবং দেখেছি। আমরা খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কমিশন করতে যাচ্ছি। আপনারা শিগগিরই তা দেখতে পাবেন।

গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণমাধ্যমের যারা কথা বলেছেন, তারা সবাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করেছেন। 

তারা বলেছেন, এই প্রথম তারা কোনো গণমাধ্যমে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অনুভব করেননি। এ কারণে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক করার জন্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে তাদের আগ্রহ এবং আমাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কোনো অমিল নেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ করে এনেছি। এখন আমরা একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) খসড়া তৈরি করবে। এরপর আমরা এটি মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও সাফল্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।