রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ

জাতীয় সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের আনা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রিট খারিজের এই আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। 

অন্যদিকে রিটের পক্ষে রিটকারি আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গেলো ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ আগামী ২০ আগস্ট।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আগে একবার রিট করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল জারি করেন। তবে বেঞ্চের অপর বিচারপতি রিট খারিজের আদেশ দেন। 
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের আরেকটি (তৃতীয় বেঞ্চ) একক বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠান। সে বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে আদেশ দেয়।

আদেশ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিজয়। হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা/কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালনের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং বিজয়-১৪ আদালতে এর দায়িত্ব পালনকারী সকল আইন কর্মকর্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।