সংসদ ভোটে কোনো ভুল ছিলো না, আমি গ্যারান্টি দিতে পারি: সিইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে কোনো ধরনের ভুল ছিলো না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ভোটের ফল নিয়ে সব জায়গায় কিছু অভিযোগ থেকেই যায়, তবে আমাদের ফলাফলে কোনো ভুল ছিলো না—আমি তা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে আইফেস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি জানান, ভোটার রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল। এই কাজে ইউএনডিপি আমাদের সহযোগিতা করেছে। অনেকেই তখন বলেছে, আগের আমলের লোকদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে—যারা দীর্ঘ সময় অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সব প্রস্তাবের সঙ্গে কমিশন একমত হতে না পারায় সেই সুপারিশ বাস্তবায়নও একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়মিতই দল নিবন্ধনের জন্য আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে। অনেক দল প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেই নিবন্ধনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলো।

সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত দেড় হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিলো এবং যতোটুকু সম্ভব ঠিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, বিতর্ক এড়াতে আগের আমলের কর্মকর্তাদের বাদ রেখে সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন করা এবং ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করাও বেশ কঠিন কাজ ছিলো। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পোস্টাল ভোটিং এবং গণভোটের বিষয়টি নিয়েও চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কমিশনের বর্তমান অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় মানুষ ইসিকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। কিন্তু আমরা ইসির সেই হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে এনেছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচনে পদে পদে চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের কমিটমেন্টের কোনো ঘাটতি নাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের থেকেও ভালো করতে চাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। যেই স্ট্যান্ডার্ড আমরা সেট করেছি তার থেকে তো নিচে যাওয়া যাবে না। আমরা যা শিখেছি তা কাজে লাগাবো। 

স্থানীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই বলা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন আমরা আইন, বিধি-বিধান মন্ত্রনালয়ে ভেটিং এ পাঠিয়েছি। আইনি বাধ্যবাধকতা আমাদের মাথায় আছে। তিনি জানান, সরকার সিদ্ধান্ত নেবে না। স্থানীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করবো। স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করবো। নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো বলে আশা করি। সেভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মোবিলাইজ করবো।

সরকার ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমার পুলিশ লাগবে, প্রশাসন লাগবে। শুধু ইসির একার প্রস্তুতি না। বাহিনীগুলোর প্রস্তুতিরও দরকার আছে। সবাই যখন রেডি হবে তখন ইসিও প্রস্তুত হবে।

আইজিপির সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কীভাবে কাজ করা যায়, জানান সিইসি।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আসনটিতে উপ নির্বাচন কবে এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আসনটিতে উপ নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে হবে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।