আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের কবি নজরুলের প্রয়াণের পাঁচ দশক পূর্ণ হলো আজ।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র এক অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক—সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই রেখেছেন সৃজনশীলতার স্বাক্ষর। তার লেখায় একই সঙ্গে উঠে এসেছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাম্যের আহ্বান, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তার বিদ্রোহী সত্তার যে প্রকাশ ঘটে, তা তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তোলে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় তার লেখনী হয়ে ওঠে প্রতিবাদের শক্তিশালী হাতিয়ার। এজন্য তাকে কারাবরণও করতে হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
নজরুলের মৃত্যু হলেও তার সৃষ্টি আজও বাঙালির জীবন, সংস্কৃতি ও চেতনায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। তার কবিতা ও গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সাম্য ও মানবতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
মৃত্যুর ৫০ বছর পরও তাই বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অমর হয়ে আছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।