নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৮৯ জনে পৌঁছেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জীবিত বা মৃত—যেকোনো অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এদিন সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর সহমর্মিতা ও শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
জবাবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা বিশ্লেষণ করার কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা কিংবা শুক্রবার দুপুরের মধ্যে সহায়তার চাহিদার বিষয়টি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এছাড়া কোনো বাংলাদেশি এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাও দ্রুত বাংলাদেশ পক্ষকে অবহিত করতে নেপালকে অনুরোধ জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান।
নেপালে জরুরি সহায়তা পাঠানো কিংবা আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কোনো ফ্লাইট প্রস্তুত রাখা হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপালের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট চাহিদা জানানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নেপালে বাংলাদেশি সংগীত শিল্পী তাসনিম খান, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করেছেন, বর্তমানে তারা নিরাপদে আছেন।
বুধবার রসুয়া জেলা দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্করী বন্যা পরবর্তীতে ত্রিশূলী এবং নারায়ণী নদী অববাহিকা ধরে দ্রুত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পথে পড়া বহু লোকালয়, হাজার হাজার কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, মহাসড়ক, ব্রিজ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সেকেন্ডের মধ্যে লণ্ডভণ্ড করে দেয় এই পানির তোড়।
বর্তমানে নেপাল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও নেপাল পুলিশ যৌথভাবে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশাল আকারের অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নদীর নিম্নাঞ্চল এবং জমে থাকা কাদার স্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার ও জীবিতদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকা হালনাগাদ করার কাজও জোরকদমে চলছে।
ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও অন্তত ৮২৬ জন মানুষ এখনো পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।