আকাশ কখনো মেঘলা, আবার কখনো মুহূর্তের বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টি হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। সামান্য বৃষ্টির পরপরই চারপাশ মেতে উঠছে চরম ভ্যাপসা গরমে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এবং তা তাপ ধরে রাখার ফলে চরম অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হলেও এতে তাপমাত্রা কমেনি। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভাদ্র মাসে এমনিতেই তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। তার ওপর বঙ্গোপসাগরে বায়ুর একটি ঘূর্ণয়ন (সার্কুলেশন) সৃষ্টি হওয়া এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছ। জলীয় বাষ্পের তাপ ধারণক্ষমতা বেশি হওয়ায় গরম এতোটা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির এ ধারা বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে।
অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে বায়ু ঘূর্ণয়ন থাকার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আগামী তিন থেকে চার দিন ধরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে সরাসরি কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, নেপালের ঘটনার প্রভাবে ভারতে সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে এর সরাসরি কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা প্রসঙ্গে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, সাধারণত বর্ষার শুরুর দিকেই সিলেট বা সুনামগঞ্জ অঞ্চলের হাওর এলাকাগুলো হঠাৎ প্লাবিত হয়। তবে এই মুহূর্তে ভারতের আসাম রাজ্যে যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে সেই পানি কিছু জায়গায় নেমে আসতে পারে। কিন্তু তাতে খুব বড়ো কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।