জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার দুপুরে, রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কাছে এই আহ্বান জানানো হয়।
জামায়াতের উদ্যোগে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা এবং দেশীয় নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের সূচনাতেই জামায়াত নেতারা জানান, একটি নতুন ও সুশাসিত বাংলাদেশ গড়তে জেষ্ঠ সাংবাদিকদের থেকে দিকনির্দেশনামূলক গঠনমূলক মতামত নেয়াই এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকরা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কাছে নানামুখী প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, জামায়াত প্রধান ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ জনজীবনের নানা সংকটময় পরিস্থিতির কথা গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তিদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবাদমাধ্যমকে সক্রিয়ভাবে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। জামায়াত সংসদ ও রাজপথ—উভয় স্থানেই দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, মতবিনিময়কালে উপস্থিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহীরা দেশের গণমাধ্যম খাতের বস্তুনিষ্ঠতা ও স্থায়িত্ব রক্ষায় বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তারা উল্লেখ করেন, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ব্যবস্থা তৈরিতে সরকারকে যেমন জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হয়, তেমনি সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধীদলকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই দেশের সার্বিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে।