ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে এস আলম-সংশ্লিষ্টদের দ্বারা বেআইনিভাবে কেন্দ্রীভূত ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ২৪টি কোম্পানির নামে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার আগামী তিন মাসের জন্য ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করে। 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির স্পনসর শেয়ারহোল্ডার প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর (আইইআরবি) পক্ষ থেকে রিটটি দায়ের করা হয়।

রিটকারীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন।

রিটে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারার বিধান লঙ্ঘন করে ২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা এবং আইন অনুযায়ী ওই শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো একই গ্রুপ বা পরিবারের হাতে একটি ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার থাকার সুযোগ নেই। তবে ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হয়ে মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।

আইন অনুযায়ী ১০ শতাংশ এর বেশি শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করবে। 

রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ওই ২৪টি কোম্পানির নামে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার তিন মাসের জন্য ফ্রিজ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।