ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৃহীত পদক্ষেপের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে সভার সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিকারমূলক করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়, এতে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নিজের বাড়িঘর ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে জনগণকে সচেতন করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার স্বেচ্ছাসেবক দল ছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউট এবং রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাসুবিধা এবং সার্বিক রোগী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের পর্যাপ্ত মশারি সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কেউ সংক্রমিত না হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠে এসব সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট প্রতিফলন থাকতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
পর্যালোচনাসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।