জুলাই গণহত্যায় সাতজনের ফাঁসির রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, এ রায়ে ন্যায়-সুবিচার নিশ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

এদিকে তাদের ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট নিরসন সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুমার নামাজের কথা বলে গুলশানে মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী। 

তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে পুলিশের ব্যর্থতা নেই।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

মামলার রায়ে দণ্ডিত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের সাত ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।