প্রতিটি বিভাগে হবে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে প্রতিটি বিভাগে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনসহ সব বাহিনীর জন্য সমন্বিত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর করা বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ সনদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানান তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সব বাহিনীর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি বিভাগে থাকবে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট। সবাই মিলে অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 

অপরাধ দমনে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সহায়তা সব সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে সব ক্ষেত্রে অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।

ক্রাইম সাংবাদিকদের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ঝুঁকি ভাতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, বিভিন্ন ফান্ড থেকেও আর্থিক সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চেষ্টা করবো ক্রাইম সাংবাদিকদের জন্য স্থায়ী ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ সনদও দেওয়া হবে।

অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের জন্য ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশে এসিড নিক্ষেপ বন্ধে বেগম খালেদা জিয়া আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার ফলে এই অপরাধ প্রায় নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিলো। তবে সামাজিক সচেতনতার অভাবে এখনও মাঝে মাঝে এ ধরনের অপরাধ ঘটতে দেখা যায়।

যুব সমাজের অবনতি ও অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করার আহবান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজের বড়ো একটি অংশ জুয়া বা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক চার খুন কিংবা রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় জুয়া ও মাদকের প্রত্যক্ষ প্রভাব বা অনুঘটক হিসেবে একই কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।

অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ লেনদেন বন্ধে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি এতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অপরাধ সংঘটনের মূল কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করতে পারলে সমাজ থেকে অপরাধ বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।