ইউপি ভোট: তারিখ চূড়ান্ত নয়, পরীক্ষা সূচি সামলে দিনক্ষণ খুঁজছে ইসি

২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ আগামী ছয় জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অভ্যন্তরীণ বৈঠকের বরাতে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ইসি সচিব আখতার আহমদ জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচনের সময়সীমা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি জানিয়েছিলো, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ইউপি ভোট শুরু করার খসড়া করা হয়েছে। তবে এদিন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি রয়েছে। তাই এ সময়ের মধ্যে ইউপি নির্বাচন করা সম্ভব কি না, তা আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। জানুয়ারি মাসটি মোটামুটি ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে। এরপরই রোজা এবং রোজা শেষে এসএসসি পরীক্ষা। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে কমিশনে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচির বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন পূর্বে যে সম্ভাব্য শিডিউল চিন্তা করেছিলো, সেখান থেকে সরে আসেনি। তবে ভোটের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণের আগে অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

একই সময়ে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সাধারণ সংসদ নির্বাচনের মতোই পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যাতে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।

ইসি সচিবালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটার সংখ্যা এখন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ছয় কোটি ৩২ লাখ ১৯৬৫ লাখ ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক হাজার ২৬৭ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত হালনাগাদে মোট ভোটার বেড়েছে চার লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন।

এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো সাধারণ নাগরিক বৈধ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনই গ্রহণ করবে।