রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর: ওসিকে প্রত্যাহার, কারাগারে ১০

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

মন্ত্রী বলেন, ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ ঘটনার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তদন্তের পর যারাই জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এখনও কঠোর অবস্থানে রয়েছি। তদন্তে যারাই জড়িত বলে শনাক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করেছে, যা আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে, ‘রাড্ডা’ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আজ আরও ছয়জনসহ মোট ১০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

কারাগারে পাঠানো আজকের ছয় আসামি হলেন- মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহ আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল।

আজ এই ছয় আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত শুক্রবার শুনানি শেষে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০) নামের চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

শাহআলী থানায় আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান সরকারি বার্তা সংস্থাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এ ছাড়া ডিএমপির এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানানো হয়েছে, পুলিশ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাকভর্তি মালামালও উদ্ধার করেছে।

এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানায় পুলিশ।  

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হামলার শিকার হয়; তখন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২০০ জনেরও বেশি মুখোশধারী ব্যক্তি সেখানে হানা দেয় এবং দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে জিম্মি করে ফেলে। 

অভিযোগ রয়েছে যে, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে হামলাকারীরা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।