পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ম্যুরাল বদলে পানির ফোয়ার খবরটি সঠিক নয়: মন্ত্রী

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মৃতিবিজড়িত ম্যুরাল পরিবর্তন করে পানির ফোয়ারা স্থাপন করা হচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেছেন, ম্যুরাল পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরালে এখনো কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। গণমাধ্যমে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে উদ্যানে কিছু সংস্কার বা কাজ করা যায় কি না—তা নিয়ে আলোচনা হলেও আত্মসমর্পণের ম্যুরাল পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 

মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আজকের বৈঠকটি ছিলো মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎকার। দুই দেশ মুক্তিযুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ করে যাবে।

সাক্ষাৎ শেষে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, উপনিবেশবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারত অতীতে একসঙ্গে লড়াই করেছে। দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা একই—সাধারণ মানুষ যাতে শান্তিতে ও ভালো থাকে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, সফর নিয়ে দুই দেশের সরকারেরই যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে এবং সার্বিক পরিবেশ বেশ ইতিবাচক। সুবিধা অনুযায়ী একটি সঠিক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সফরে আলোচনার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে, তবে দিন বা মাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   

বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও জানান, ঢাকা ও নয়াদিল্লি পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিতে চায়। তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি হাইকমিশনার।