প্রথমবারের মতো জাতীয় সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক

শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগ অনুযায়ী এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- ‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

এ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বসছে এক বর্ণাঢ্য ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ এবং নগদ ২ লাখ টাকার অর্থপুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মান জানানোর পরিধিতে এবার এসেছে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। ইতিপূর্বে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননা দেওয়া হলেও, এবারই প্রথম প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট ১০০ জন গুণী শিক্ষককে এই জাতীয় সম্মানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই এই পদকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটাসহ সর্বমোট ৯টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাউশি ও ইউজিসির গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই ১০০ জন সেরা শিক্ষককে বাছাই করা হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি এ বছর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে একযোগে দিবসটি উদযাপিত হবে। সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, শিক্ষকরাই তরুণ প্রজন্মের মাঝে সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বুনে থাকেন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্যারিসে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয় এবং ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এটি পালিত হয়ে আসছে। সর্বস্তরের শিক্ষকমণ্ডলীকে এক ছাদের নিচে এনে এবার বাংলাদেশে পালিত হতে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক দিবসটি শিক্ষা অঙ্গনে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।