সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈশ্বিক এই বাস্তবতা নিরিখে ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনে চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন সিলেবাস তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও গুণী শিক্ষক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের গুণী শিক্ষকদের হাতে জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে দেশের কোনো শিশুই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে বইবিমুখ না হয়ে পড়ে, সে জন্য শিক্ষাকে আনন্দময় ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তোলা জরুরি।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সময়ের দাবি। সে লক্ষ্যেই চলতি বছরের মধ্যে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন ও শিক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছানোর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতি গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর সম্মাননা পাওয়া ১০২ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ের ২০ জন, কলেজ পর্যায়ের ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তিনজন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তিনজন এবং অন্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত সাতজন শিক্ষককেও সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।