প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে প্রাধান্য অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চার দিনের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ২৬ অক্টোবর টোকিও সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এই হাই-প্রোফাইল সফরের মূল ফোকাসই থাকবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচন করা।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব নিয়ে গত এপ্রিলে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এক বিশেষ অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিলেন, তাতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গভীর আস্থা তৈরি হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

জাপান সফরের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারে বড় অগ্রগতির কথাও জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সৌদি যুবরাজ ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিযাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই সুবিধাজনক সময়ে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে।

একই সাথে সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের দারুণ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যাকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় রাজকীয় ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে উঠে আসে, বাংলাদেশ এখন আর শুধু একক বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিশ্বের উদীয়মান ও উন্নত অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বভিত্তিক বিনিয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে।

মেগা প্রকল্পগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খাতভিত্তিক বাণিজ্য বাড়ানোই হবে টোকিও সফরের মূল লক্ষ্য। ফরেন সার্ভিস একাডেমির সেমিনারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ এবং এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীসহ শীর্ষ কূটনীতিকরা উপস্থিত থেকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন এই কূটনৈতিক মেরুকরণকে স্বাগত জানান।