সৌদিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তায় তৎপর ঢাকার দুই মন্ত্রণালয়: শামা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এর আগে প্রথম দফার হামলায় আরও একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অভিযুক্ত করেছে। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের ফলে বেসামরিক স্থাপনা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধারা সেখানে খুব কষ্ট করে কাজ করেন। এই ধরনের মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাইদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে এবং রিয়াদ ও জেদ্দা মিশন সার্বিক খোঁজখবর রাখছে।

নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তায় সব মিশন একযোগে কাজ করছে এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীও এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করছেন।

আশা করছি আর কোনো খারাপ খবর আমাদের শুনতে হবে না, এই অ্যাটাক বন্ধ হবে, আশাবাদ ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এদিকে একই দিন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে একাত্তরকে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি আরও জানান, একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।