দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে অর্জিত হলো এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকিমুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত পরমাণু বিক্রিয়া (নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন)। রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে এই পরমাণু বিক্রিয়া সফলভাবে শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল।
প্রকল্প সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রূপপুর প্রকল্পের পারমাণবিক বিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলে। অনুমোদন পাওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় রোববার বিকেলে সফলভাবে এই বিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী কারিগরি ধাপগুলো ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই, অর্থাৎ চলতি নভেম্বর মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এই অর্জনকে রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন পরমাণু শক্তি প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, পরমাণু বিক্রিয়া সফল হওয়ার পর এখন 'সি ধাপে' প্রবেশ করা হবে, যেখানে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের শক্তি বৃদ্ধি করা হবে। এরপর উৎপাদিত নিয়ন্ত্রিত তাপের মাধ্যমে বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে সুবিশাল টারবাইন, যা জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।
তবে টারবাইন, জেনারেটর এবং জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের মধ্যকার সংযোগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল বলে জানান পরমাণু বিশেষজ্ঞরা। সফলতার সঙ্গে সঠিক নিরাপত্তা মেনে এই গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন শেষ করা গেলে নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিটের আলো পৌঁছে যাবে দেশের জাতীয় গ্রিডে। প্রথম ইউনিটের এই ঐতিহাসিক সফলতার পাশাপাশি আগামী ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।