আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস।
আসন্ন দুর্গোৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে নেতারা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ৫৫ বছরে দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিক ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সংঘটিত কোনো হামলারই বিচার রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি। বিচারহীনতার এই দীর্ঘ সংস্কৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা জানান, গত এক বছরে মন্দির ও প্রতিমায় হামলার ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি ও পদক্ষেপে তারা কিছুটা সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ২২ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, সার্বিক নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নসহ মোট আট দফা দাবি সরকারের কাছে পেশ করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করে পূজা কমিটির নেতারা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে শারদোৎসবে সরকারিভাবে বিধিবদ্ধ তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিমা ও মন্দিরে হামলার মতো সহিংসতা চিরতরে বন্ধের আহবান জানানো হয়েছে।
সভায় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দরা প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলা রোধে পুলিশ-প্রশাসনের পাশপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।