মলদ্বারে ডিম্বাকৃতির পেস্ট ও ফ্রাইপ্যানে লুকিয়ে স্বর্ণ পাচার!

রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আলাদা দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের স্বর্ণ জব্দ করেছে।

মলদ্বারে ডিম্বাকৃতির পেস্ট আকারে এবং রান্নার ফ্রাইপ্যানের মধ্যে লুকানো অনন্য কৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণ আনা হচ্ছিল। সোমবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মোহাম্মদ সোলায়মান ও জোবায়েদ আহমেদ নামের দুই যাত্রী।

Gold Rush 01
গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় তাঁদের চলাফেরা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে কাস্টমস গোয়েন্দারা তাঁদের থামিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা নিজেদের দেহাভ্যন্তরে স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেকের রেক্টাম (মলদ্বার) থেকে বিশেষভাবে পেঁচানো ৩টি করে মোট ৬টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়। ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম ওজনের এই পেস্ট আকৃতির স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, একই দিন সকাল ৭টার দিকে আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের অপর একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন কামরুল ইসলাম নামের এক যাত্রী। গোপন খবরের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে তাঁর ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে দেখা যায়, ওই যাত্রী তাঁর সাথে থাকা রান্নার ফ্রাইপ্যান এবং সবজি গ্রেটারের ধাতব ফ্রেমের ভেতরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ৪টি খণ্ডিত স্বর্ণবার লুকিয়ে এনেছিলেন। জব্দ করা ৪৬৬ গ্রাম ওজনের এই বারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য শুল্ক-করসহ প্রায় ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

উভয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণ কাস্টমসের আইনানুযায়ী ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যার পর বিশুদ্ধ স্বর্ণের সঠিক পরিমাণ ও চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

সিআইআইডি জানিয়েছে, ইদানীং গৃহস্থালি সামগ্রীর আড়ালে কিংবা শরীরের ভেতরে করে জটিল কৌশলে সোনা চোরাচালানের প্রবণতা বাড়ায় দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সার্বক্ষণিক তৎপরতা বহু গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।