রায়ের কপি পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ: শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আদালতের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি গভীরভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সার্বিক কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের কঠোর আইনি কাঠামোর অধীনে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ জানতে ইতিমধ্যে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সৌদির আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর ঢাকা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

শামা ওবায়েদ জানান, সৌদি আরবে আটক ও বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা সেদেশের সরকার নিয়মিত বিরতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে থাকে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই প্রবাসীর নাম সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সৌদির কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনা সত্ত্বেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে সৌদি সরকারের সার্বিক মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গেছেন।

বিদেশে প্রবাসীদের সুরক্ষা ও সহায়তার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসে কোনো কর্মী বিপদে পড়লে বা মারা গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে ২০২৩ সালে সৌদিতে নিহত এক প্রবাসীর পরিবারের জন্য বড় অংকের ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব হয়েছে, যা সোমবার তাঁর পরিবার গ্রহণ করেছে।

এছাড়া সম্প্রতি সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের সঙ্গেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

অন্যদিকে, কাতারে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান গ্রেপ্তারের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ইন্টারপোল সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলো প্রধানত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থানরত দূতাবাসগুলো বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা কূটনৈতিক সহযোগিতা চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।