ধর্মের নামে বিভ্রান্তি আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেয়া হবে না: রাষ্ট্রপতি

স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর নতুন দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার দুপুরে, বঙ্গভবনে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর মহান আল্লাহ বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যে সুযোগ দিয়েছেন, তা জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ফিরে আসতে না পারে এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে কেউ কোনো বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতিব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।

আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, তাঁরা উভয়ই উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী পণ্ডিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থার পরিচয় হিসেবেই শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে পবিত্র ‘বিস্‌মিল্‌লাহির্‌-রাহ্‌মানির্‌-রহিম’ সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। তবে দেশের মানুষের সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও শরিয়াহর বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো পদক্ষেপ যেন কেউ না নিতে পারে, সে বিষয়ে অভিভাবক হিসেবে তিনি নজর রাখবেন।

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অনুদান সহায়তার সুযোগ প্রসারে তাঁদের আরবি ভাষার দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি কাজে লাগানোর প্রস্তাব ব্যক্ত করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি তাঁদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

পরিশেষে আলেমদের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানালে তিনি সুবিধাজনক সময়ে সেখানে সফর করা এবং হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।