রিয়াদে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবরের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মো. শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তিনি (শাহেদ) বগুড়ার শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত আমরা ১০ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনেছি। তিনি ১১তম।’

শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহটি তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে চার কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। ‘সে কারণেই সেখানে কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন থাকি,’ বলেন তিনি।

সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে জানতে চাইলে শামা বলেন, ওই দুই ব্যক্তির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সরকার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে অনেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি ২০২৩ সালে ঘটেছিল।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি কারাগারে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর মন্ত্রণালয় জানতে পারলেই তাঁদের রক্ষার উপায় খুঁজতে আমরা দ্রুত চেষ্টা শুরু করি।’

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের গন্তব্য দেশের আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে আগে থেকেই জানার আহ্বান জানান শামা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি এবং আমাদের মিশনগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

বিদেশে কর্মী নিয়োগের ব্যয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দালালদের কারণে অভিবাসী কর্মীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।