সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কোনো কনস্যুলার কর্মকর্তার গাফিলতি বা অবহেলা ছিলো কি না—তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠকে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা শেষে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ তথ্যের জবাবে সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, সৌদি সরকারের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা সংসদীয় কমিটিকে জানাতে হবে।
এছাড়া বৈঠকে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সেবার মান বাড়াতে আধুনিকায়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
সৌদি আরবের মক্কায় গত ১৪ অক্টোবর আল-মাজাল কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করা দুই বাংলাদেশি নাগরিক—নাজরুল ইসলাম আব্দুল বাছির (২২) ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আব্দুল বাছিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং সিতি আখতারের বাড়ি টাঙ্গাইলে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ (অত্যন্ত আপত্তিকর বা ব্যভিচারের অভিযোগ) করার অভিযোগে তাজির (ইসলামিক আইন অনুযায়ী বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি) ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ইসলামি শরীয়াহ ও সৌদি আইন অনুযায়ী তাজির বা শাস্তির আওতায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ত্যুদণ্ড কার্যকরের আগপর্যন্ত ঢাকাকে বা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য, অপরাধের বিবরণ, বিচারপ্রক্রিয়া, আইনি সহায়তা এবং মরদেহের অবস্থান জানতে চেয়ে ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক পত্র (নোট ভার্বাল) পাঠিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।
এ ঘটনার পর দেশে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে, যার মধ্যে শাহবাগেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।