- এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
- যৌথভাবে হাইটেক পার্ক ও মহাকাশ গবেষণা
- ছয় বিভাগীয় শহরে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কে
- পাঁচ বছরে ট্রিলিয়ান ডলার অর্থনীতির সম্ভাবনা
- বাংলাদেশে বিশেষ জাপানি প্রতিনিধিদল প্রেরণ
বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে প্রায় প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় 'কান্তেই'-তে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে এই বৈপ্লবিক বিনিয়োগ প্রস্তাবসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে জানান, এই সুবিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দ্রুত অংশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি বিশেষ জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়েও বৈঠকে একমত প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সংহতকরণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তি বিনিময়, মহাকাশ গবেষণা এবং হাইটেক অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, "২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।" এ অগ্রযাত্রায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ জাপানের ধারাবাহিক ও সক্রিয় ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তির অবকাঠামো প্রকল্প: দেশের অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন, উচ্চগতির পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। প্রস্তাবিত এই টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও বিশ্বমানের ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে প্রাধান্য দিয়ে জাপানের নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয় ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতেও জাপানের অগ্রগামী অভিজ্ঞতা ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক রূপান্তরে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে দ্রুতগতির মেগা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং সারা দেশে উড়াল সড়ক (ফ্লাইওভার) নির্মাণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এ ধরনের মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে জাপানের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।