মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার (মেডিক্যাল টেস্ট) নতুন তারিখ ও সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে সরকারের অনুমোদিত সেন্টারগুলোতে কর্মীদের এই পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে কোনো মেডিক্যাল পরীক্ষা করা বা করানো যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এমতাবস্থায় ওয়েবসাইটে চোখ রাখার পাশাপাশি আপডেট তালিকা দেখে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা পরিপালন এবং কার্যক্ষমতা বিচারে তালিকায় থাকা কিছু কেন্দ্র বাদ পড়তে পারে, আবার নতুন কোনো কেন্দ্র যুক্তও হতে পারে।
মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবরের আগে সম্পন্ন করা কোনো মেডিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের (জনশক্তি ছাড়পত্র) ক্ষেত্রেও তা প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।
সরকারি নির্দেশনা ও চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি কিংবা মেডিক্যাল সেন্টার কর্মীদের এই পরীক্ষা করাতে পারবে না উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু অসাধু এজেন্সি ও দালালচক্র অনুমতি পাওয়ার আগেই মেডিক্যাল করানোর কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। অনুমোদন সুনির্দিষ্ট না হয়ে কোনো পক্ষকে টাকা বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার এবং এই ধরনের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত সেন্টারের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাগজপত্র এবং ‘ভিডিআর’ ভিসার নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যার সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী পাঠানোর যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিতসহ সরকারি অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।
কেউ যদি অবৈধ বা অনুমোদনহীন মেডিক্যাল পরীক্ষার মতো কার্যক্রমের মুখোমুখি হন, তবে নির্দিষ্ট প্রমাণসহ (ইমেইল: secretary@probashi.gov.bd) সরাসরি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এই তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হলো বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।