জাপানে চার দিনের সফল সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কিছুটা বিলম্বের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের। তবে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে এবং সফরসঙ্গী ও সাধারণ যাত্রীদের বিপদে না ফেলে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, জাপান থেকে রওনা হওয়ার আগে রুটিন পর্যবেক্ষণের সময় বিমানে একটি সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। যদিও এটি বড় কোনো জটিল সমস্যা ছিল না এবং পরবর্তীতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা দ্রুত সমাধান করা হয়, তবুও এর ফলে উড্ডয়নে কিছুটা বিলম্ব ঘটে।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী চাইলে বিকল্প কোনো বিমানে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরে আসতে পারতেন। কিন্তু তিনি সফরসঙ্গী ও বিমানের কোনো যাত্রীকে পেছনে ফেলে একা ফিরতে সম্মত হননি। বিমান ছাড়তে দেরি হওয়ার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ককপিট থেকে বের হয়ে অন্য যাত্রীদের কাছে যান, তাদের কুশল জিজ্ঞেস করেন এবং অভয় প্রদান করেন।
একই সময়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিলম্বের কারণে বিমানে থাকা শিশু যাত্রীরা যাতে কষ্ট না পায় বা কান্নাকাটি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেন তিনি। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং সব যাত্রী যেন নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই খোঁজখবর নেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টোকিওতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন এবং একাধিক শীর্ষপর্যায়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি কোম্পানির সিইওদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
সফল সফর শেষে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।