ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সংঘর্ষের মধ্যেই শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একইসঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ পরিহার করে অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও অধিকারের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই আজ নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো। তাদের প্রতিনিধিকেও বোর্ডে রাখা হয়েছে। আশা করি, এখন তারা রাস্তা ছেড়ে কারখানায় কাজে যোগ দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পোশাকশিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য শ্রম আইন অনুযায়ী চারজনের সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি যুক্ত করে ৬ সদস্যের এই বিশেষ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের বিভিন্ন পদে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন-
- চেয়ারম্যান: সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।
- মালিকপক্ষের প্রতিনিধি: বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএ পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন।
- শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
- নিরপেক্ষ সদস্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
শ্রমমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বোর্ডে সদস্য হয়েছেন, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কারণ শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিক প্রতিনিধি তো বুর্তেই আছেন, বিষয়টি এখন তাদের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।"
রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আগেই আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে রবিবার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে, তবুও কেন রাস্তায় আন্দোলন হলো তা প্রশ্নবিদ্ধ।
মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আজকে কী হলো? সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা করা হলো। অথচ গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের নেতৃবৃন্দসহ ঘোষণা দেয়া হয়েছিল যে, আজকেই বোর্ড গঠিত হবে। এটা আমার কাছে খুবই পরিষ্কার যে, দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন ও মহল পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো করাচ্ছে।