বুধ থেকে শনিবার সারাদেশে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিন সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।

রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানায়, মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বুধবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন (আমদানিকৃত তরল এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর) প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।

বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সামিটের টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। ফলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমবে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ৩৫ শতাংশ। আর এই বিশাল ঘাটতির কারণে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ অনুভূত হতে পারে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে মোট দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে সামিট গ্রুপের টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটির সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল মিলে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব।

দেশে প্রতিদিন উৎপাদিত দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজি যুক্ত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এমনিতেই অপ্রতুল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আবাসিক গ্রাহকদের নিয়মিতই স্বল্প চাপের সমস্যায় ভুগতে হয়।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরেও সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে নতুন করে এই চার দিন এলএনজি সরবরাহ বড় অঙ্কে কমে যাওয়ায় শিল্প উৎপাদন ও বাসাবাড়ির রান্নাবান্নায় সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।