ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব র্যালি বা শোভাযাত্রা। দীর্ঘ ২০ বছর পর সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই দিবসটি পালন করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শনিবার বিকেল ৩টার পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই র্যালির উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি পায়ে হেঁটে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন এবং নেতৃত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উল্লাস দেখা যায়। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড।
এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর আকাশ-বাতাস। ঐতিহাসিক এই র্যালিতে সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এই দিনটি নিয়ে নানা অপপ্রচার ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রকৃত ঘটনা, এর প্রভাব ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব থেকে অন্ধকারে ছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ঐতিহাসিক দিনের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।