কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার দুপুর থেকে টার্মিনালটি থেকে আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে করে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুর ১টা থেকে সামিটের টার্মিনালে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের (রিগ্যাসিফিকেশন) কার্যক্রম শুরু করা হয়। সফলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ায় এখন মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আগের নির্ধারিত মাত্রায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
এর আগে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গত ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট টার্মিনালের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির প্রাথমিক ধারণা ছিল, সামিটের কাজ বন্ধ থাকার কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।
তবে এই সময়টিতে দেশজুড়ে চার দিন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। পেট্রোবাংলা দ্রুত সেটিকে 'গুজব' হিসেবে চিহ্নিত করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কোথাও গ্যাস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে না, কেবল কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ (প্রেসার) কিছুটা কম থাকতে পারে। এ ছাড়া এই সময়ে গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে সামিট গ্রুপের পরিচালিত টার্মিনালটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়েছিল সামিট গ্রুপ।