সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক হবার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, কোনো ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে আর কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে চলা প্রতিটি ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক বিশাল ‘সার্বভৌমত্ব র‍্যালি’ ও সংবর্ধনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

BNP Rally 04
নয়াপল্টনের জনসমুদ্র ও র‍্যালির সূচনা:
ঐতিহাসিক দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১২টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে শুরু করেন দলের লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা মুহূর্তেই এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নেতাকর্মীদের হাতে ছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বর্ণিল ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর আকাশ-বাতাস।

বিকেল ৩টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

BNP Rally 03
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি:
সমাবেশের প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ বছর পর দেশের মানুষ মুক্ত পরিবেশে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেলেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি স্মরণ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন মহল দেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল অন্ধকারের রাজনীতি।

BNP Rally 05
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করে গণতন্ত্রের পুনঃসূচনা করা হয়েছিল। একইভাবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। স্বয়ং নিজে স্লোগান ধরে তিনি উচ্চারণ করেন, দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল আবারও দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটাধিকার নস্যাৎ করতে ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের বন্দোবস্ত করতে চায়। তবে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে ক্ষুদ্র মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

BNP Rally 02
মানিক মিয়া এভিনিউয়ে র‍্যালির সমাপ্তি ও শপথ:
নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেঁটে র‍্যালির নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে কুশল বিনিময় করেন। র‍্যালিটি কাকরাইল, হেয়ার রোড, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি অতিক্রম করে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যত দিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই বিপ্লবের র‍্যালি চলমান থাকবে। আসুন, আজকের এই দিনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যে কোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব।