জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায়, রেলে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।
যাত্রীদের চাপ সামলাতে ২২টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এরিমধ্যে শনি ও রোববারের আগাম টিকেট শেষ হয়ে গেছে।
তবে, অনেকেই টিকেট না পেয়ে ফিরে গেছেন। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের টিকেট বিক্রিও বন্ধ রয়েছে।
এতে মানুষ আরো বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। একে তো দূরপাল্লার বাস বন্ধ, তার ওপর ট্রেনের টিকেট না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই।
তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় বিকল্প হিসেবে ট্রেনেই তাদের জন্য একমাত্র উপায়। কিন্তু টিকেট ব্যবস্থাপনার বর্তমানের কারণে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।
একে তো দূরপাল্লার বাস বন্ধ, আবার স্টেশনে যত যাত্রী, তাতে ট্রেনের টিকিট পাওয়া এবং উঠতে পারা নিয়ে শঙ্কা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক যাত্রী।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন
খুলনাগামী এক যাত্রী জানালেন, ভোরে এসেও তিনি টিকেট পাননি। বলা হচ্ছে আগামী দুই-তিন দিনের টিকেট নেই। আর এখন দাঁড়িয়ে যাবারও সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, রাজশাহীতে যাবার জন্য কমলাপুরে আসা আরেক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে এসে এখন ফেরত যেতে হচ্ছে। কোন উপায় নেই দেখে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে তাকে।
ময়মনসিংহগামী এক যাত্রী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ঢাকায় জরুরি কাজে এসেছিলাম। এখন বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু বাস বন্ধ, ট্রেনের টিকিটও নেই। যেতে পারব কিনা সেই আশঙ্কাও আছে।
এ ছাড়া স্টেশনে আসতেও অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানান। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের স্টেশনে আসতে হয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, গেলো বুধবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে ভাড়া বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একাত্তর/এসজে