আরো সংক্রামক হতে পারে করোনার নতুন ধরন

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন এবং চরিত্র দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু করে গোট বিশ্বের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁচ ফেলতে শুরু করেছে। তারা বলেছেন, এই ধরনটি নিয়ে উদ্বেগের অনেক কারণ রয়েছে। এখন থেকেই নজরদারি বাড়াতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা এবং হংকংয়ে পাওয়া বি.১.১৫২৯ ধরনটি জন্ম হয়েছে কমপক্ষে ৫০ বার জিনের বিন্যাস বদলে। এরমধ্যে ৩২ বার বদলেছে স্পাইক প্রোটিনের চরিত্র।

যা দেখে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, স্পাইক প্রোটিনের বিন্যাস বদলে আরও রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে করোনা ভাইরাস।

চলতি মাসের শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এর জন্য নতুন ধরনটিকেই দায়ী করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

তাড়াহুড়ো করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দেশটির ভাইরোলজিস্ট তুলিও দে অলিভিয়েরা বললেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা এক নতুন ধরন পেয়েছি, যা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য চিন্তার বিষয়।’

তিনি জানান, নতুন যে ধরনটি পাওয়া গেছে সেটি স্পাইক প্রোটিনের গঠর বার বার বদলে মানবদেহে অনুপ্রবেশে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে বলেই তার ধারনা।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, বতসোয়ানা এবং হংকংয়ে আগত দক্ষিণ আফ্রিকানদের শরীরেও এই ধরন পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ছড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে, ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্কোইস ব্যালাক্স বলেছেন, অবশ্যই নতুন ধরনটি সমস্যা তৈরি করতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে নতুন মহামারী সৃষ্টি করবে।

তিনি জানান, এখনই নতুন ধরন নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এটি দ্রুত শনাক্ত হয়েছে, তাই দ্রুত প্রতিরোধও সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এটি কতটা সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের উচিত এই এর গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা। তবে এখনই খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

ব্রিটিশ সরকারের মহামারী বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মাইক টিলডেসলে বলেছেন, এখনই ধরনটি সম্পর্কে কিছু বলার সময় হয়নি। কারণ এটির চরিত্র এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

মাইক আরো বলেন, নতুন ধরনটি টিকাকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা অথবা অতি সংক্রামক কিনা, তা বলার সময় এখনো আসেনি।

আরও পড়ুন: আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে ফ্লাইট নিষিদ্ধের কথা ভাবছে ইইউ

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে সব মিলিয়ে নতুন ধরনে আক্রান্ত ১০০ রোগী পাওয়া গেছে। এটি উদ্বেগের হলেও আতঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই।

টিলডেসলে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমণ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো দেশটির মাত্র ২৪ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে, যা করোনা প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট নয়।


একাত্তর/আরএ