জাপানি দুই শিশুকে নিয়ে আপিল বিভাগে বাবা

জাপানি দুই শিশুকে নিয়ে আপিল বিভাগে এসেছেন তাদের বাবা ইমরান শরীফ। আজ বেলা ১১টার দিকে শিশুদের নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। একই সময়ে উপস্থিত হন শিশুদের জাপানি মা এরিকো নাকানো।

এর আগে সকালে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে আপিল বিভাগে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

ইমরানের বিরুদ্ধে শিশুদের জাপানি মা এরিকো নাকানোর আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি চলছে। প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচ বিচারপতি শিশুদের খাস কামরায় ডেকে তাদের বক্তব্য শুনছেন।

আরও পড়ুন: লাবিবা-লামিসাকে আলাদা করতে অস্ত্রোপচার শুরু   

দুই শিশুকে রোববার রাত ১০টার মধ্যে মায়ের কাছে দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি বাবা শরীফ ইমরান। এই নির্দেশনা না মানায় তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনবেন বলে রোববারই জানিয়েছেলেন এরিকোর আইনজীবী।

এর আগে রোববার দুপুরে জাপানি দুই শিশু বাংলাদেশি বাবার কাছে থাকবেন উল্লেখ করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা মায়ের আপিলের ওপর আংশিক শুনানি করেন। পরে আদালত দুই শিশুকে দুদিনের জন্য মায়ের রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রোববার রাত ১০টার মধ্যে শিশু দুটিকে তাদের মায়ের হেফাজতে দিতে বাবার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। আদালতে জাপানি মায়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম। বাংলাদেশি বাবার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম।

গতকাল রাত ১০টার মধ্যে দুই শিশুকে মায়ের জিম্মায় দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা ছিল।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, শিশুদের আনতে গেলেও তাদের মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি।

গেল ৫ ডিসেম্বর দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে নিজের জিম্মায় নিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন জাপানি মা নাকানো এরিকো। এর আগে, ২১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।


একাত্তর/এআর